গানভর ইউএসএ থেকে ১১৭ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

দেশে গ্যাসের ঘাটতি পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের গানভর ইউএসএ এলএলসির কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ১২ বছর মেয়াদে কোম্পানিটির কাছ থেকে ১১৭ কার্গো এলএনজি কিনবে বাংলাদেশ।

জিটুজি ভিত্তিতে চলতি বছর থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত এসব কার্গো দেশে আসবে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে গতকাল এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ প্রস্তাব উপস্থাপন করে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গানভরের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালে পাঁচ কার্গো, ২০২৭ সালে ছয় এবং ২০২৮ সালে দুই ধাপে ছয় কার্গো এলএনজি কেনা হবে। জেকেএম (জাপান-কোরিয়া মার্কেট) সূচকের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউ দশমিক শূন্য ৮৭৫ মার্কিন ডলার যোগ করে এসব এলএনজি কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এরপর ২০২৯ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১০ কার্গো করে এলএনজি কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করা হবে ১২১ শতাংশ এইচএইচ সূচকের সঙ্গে ৫ দশমিক ২০ মার্কিন ডলার যোগ করে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতে অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতির ভুক্তভোগী বাংলাদেশও। তাই দেশে গ্যাসের চাহিদা পূরণে চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের গানভরের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি কার্গো কেনা হবে। গানভর ছাড়া আরো তিন প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ছয় কার্গো এলএনজি কিনবে জ্বালানি বিভাগ।

সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কাছ থেকে দুই কার্গো এলএনজি প্রতি এমএমবিটিইউ ১৫ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার দরে এবং ওমানের ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির কাছ থেকে দুই কার্গো এলএনজি জেকেএম সূচকের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউ দশমিক ৫৪ মার্কিন ডলার যোগ করে কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এছাড়া হংকংয়ের ঝেনইউ শিপিং কোম্পানি লিমিটেড থেকে চলতি বছর সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে দুই কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউ ১৪ দশমিক ৯৫ মার্কিন ডলার দরে এসব এলএনজি কেনার সুপারিশ করা হয়।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানির নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় ব্যবস্থায় এলএনজি সংগ্রহের মাধ্যমে গ্যাসের চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে দুটি দেশ থেকে এলএনজি আমদানি করে। এর মধ্যে কাতার ও ওমানের দুটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জিটুজি ভিত্তিতে বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশ কেনা হয়। বিশেষ করে কাতার গ্যাসের কাছ থেকে বাংলাদেশ প্রতি বছর ৪০ কার্গো এলএনজি আমদানি করে। ইরানের হামলায় এলএনজি স্থাপনা রাস লাফান লিকুইফায়েড সিটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাতার ফোর্স মেজর ঘোষণা করেছে। ফলে আগামী দুই থেকে তিন বছর বাংলাদেশ কাতার থেকে চুক্তির অর্ধেক কার্গো পেতে পারে এমন আশঙ্কা রয়েছে। এসব কারণে গ্যাসের সরবরাহ নিরাপদ রাখতে সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদে এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে।

আরও